#পর্ব ১:
আজকের গা শিউরে ওঠা সত্য ঘটনাটি আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন মুস্তাকিম রহমান। তিনি নিজেই এই ভয়াবহ ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী। ঘটনাটি ২০১৫ সালের, নাটোর জেলার রুইগারি হাই স্কুলের।
আমাদের রুইগারি হাই স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৮৩২ সালে। অনেক পুরোনো স্কুল, তাই চারপাশটা সবসময় জঙ্গল আর বড় বড় গাছে ঘেরা থাকে।
কিন্তু স্কুলের সবচেয়ে ভয়ের জায়গা হলো পেছনের বিশাল তেঁতুল গাছটা। গাছটার বয়স প্রায় ৪০০ বছর!
স্কুল তৈরির অনেক আগে থেকেই ওই গাছটা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সেখানে পূজা দেয়, খাবার রেখে আসে।
গ্রামের মানুষের মুখে মুখে ঘোরে— ওই গাছের ডাল ভাঙলে বা পাতা ছিঁড়লে তার কপালে নেমে আসে ভয়াবহ বিপদ। কিন্তু তখন আমরা উঠতি বয়সী কিশোর, এসব ভূত-প্রেত বিশ্বাস করতাম না।সেদিন স্কুলে রাতে গানের কনসার্ট ছিল। অনুষ্ঠান শেষে চেয়ার-টেবিল গোছাতে গোছাতে রাত প্রায় ১টা বেজে গেল।
প্যান্ডেলের লোক, স্কুলের ক্লার্ক পারভেজ কাকা , আসলাম স্যার
— সবাই কাজ শেষে স্কুল গেট দিয়ে বেরিয়ে গেলেন।
পুরো স্কুল প্রাঙ্গণে শুধু আমরা কয়েকজন বন্ধু।
চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার, ঝিঁঝি পোকার একটানা শব্দ পরিবেশটাকে আরও ভৌতিক করে তুলেছে। হঠাৎ এই মাঝরাতে আমার তেঁতুল খেতে ইচ্ছে হলো!
আমি গাছে উঠতে পারতাম না, কিন্তু আমার এক বন্ধু খুব ভালো গাছে চড়তে পারতো। আমি তাকে তেঁতুল পাড়তে বললাম। সে প্রথমে ওই ৪০০ বছরের পুরোনো গাছে উঠতে একদমই রাজি হলো না।
কিন্তু আমার জোরাজুরিতে কিছুক্ষণ পর সে একাই তেঁতুল গাছের দিকে এগিয়ে গেল। অন্ধকারে তার শরীরটা গাছের ডালে মিলিয়ে গেল।
বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেল। গাছের ওপর থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই।
আমি নিচ থেকে ডাক দিলাম, "কিরে দোস্ত, তেঁতুল কি পেলি?"
কোনো উত্তর নেই।
[আগামী পর্বে : বন্ধুর কি হয়েছিল.? জানতে চোখ রাখুন আগামী পর্বে।]
পর্ব ২: শ্মশানের পথ ( সত্য ঘটনা)
হঠাৎ 'ধপ' করে একটা শব্দ হলো। দেখলাম, বন্ধু গাছ থেকে লাফ দিয়ে নিচে নেমেছে। তার হাতে কয়েকটা তেঁতুল।
আমি তেঁতুল নিতে ওর দিকে হাত বাড়ালাম। হঠাৎ ওর হাতের স্পর্শে আমি শিউরে উঠলাম। ওর হাত দুটো বরফের মতো ঠান্ডা!
আমি ওর মুখের দিকে তাকাতেই আমার বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে উঠল। ওর চোখ দুটো টকটকে লাল, যেন রক্ত জবা! দৃষ্টি
আমি কাঁপা কাঁপা গলায় বললাম, "কিরে, তোর শরীর কি খারাপ লাগছে? চোখ এমন লাল কেন? তুই এমন অস্থির আচরণ করছিস কেন?"
সে জবাব দিল, "আমার কিছু হয়নি। আমি এখন বাড়ি যাব।তুই তেঁতুল খা। "
রাত তখন দেড়টা। ওর বাড়ি স্কুল থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে। আর সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, ওর বাড়ি যাওয়ার কাঁচা রাস্তাটার ঠিক পাশেই গ্রামের পুরোনো শ্মশানঘাট!
আমি ওর হাত চেপে ধরলাম।
"পাগল হয়েছিস? এত রাতে একা যাবি? আজ আমার বাসায় চল। সকালে যাবি।"
কিন্তু সে কোনো কথাই শুনল না। আমার হাতটা এক ঝটকায় ছাড়িয়ে নিয়ে ঘুটঘুটে অন্ধকারের দিকে পা বাড়াল।
অনেক দুশ্চিন্তা নিয়ে আমি আমার বাড়ি ফিরে এলাম। ক্লান্তিতে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই চোখ লেগে এলো।
[আগামী পর্বের : বন্ধু কি সেদিন রাতে বাড়ি পৌঁছাতে পেরেছিল? পরের দিন সকালে স্কুলের মাঠে কীসের এত ভিড়? শেষ পরিণতি জানতে পড়ুন অন্তিম পর্ব।]
পর্ব ৩: ৪০০ বছরের অভিশাপ ( সত্য ঘটনা)
কিন্তু সকাল হতেই আমার বাড়ির দরজায় প্রচণ্ড ধাক্কা। গ্রামের এক লোক হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, "মুস্তাকিম, জলদি আয়! তোর বন্ধু আর বেঁচে নেই!"
কথাটা শুনে আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেল। আমি পাগলের মতো দৌড়াতে লাগলাম ওর বাড়ির দিকে।
কিন্তু রাস্তায় যেতেই দেখি, গ্রামের মানুষ ওর বাড়ির দিকে নয়, সবাই ছুটে যাচ্ছে আমাদের সেই রুইগারি স্কুলের দিকে!
আমার বুকটা ধড়ফড় করে উঠল। আমি স্কুলের মাঠে ঢুকতেই ভিড় ঠেলে সামনে এগোলাম।
আর যে দৃশ্য দেখলাম, তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।
স্কুলের সেই ৪০০ বছরের পুরোনো তেঁতুল গাছটার ডালে একটা মোটা দড়িতে ঝুলছে আমার বন্ধুর নিথর দেহ!
আমার মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিল। ও তো কাল রাতে শ্মশানের রাস্তা ধরে বাড়ির দিকে চলে গিয়েছিল! আমি নিজের চোখে ওকে গেট দিয়ে বের হতে দেখেছি!
তাহলে ও আবার স্কুলে ফিরে এলো কীভাবে?
কি হয়েছে কেউ বলতে পারেনা!
আমার বয়স এখন ২১ বছর। বন্ধু বেঁচে থাকলে আজ আমারই বয়সী হতো। আজও রাতে ঘুমাতে গেলে ওর সেই টকটকে লাল চোখ দুটো আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
আমি শুধু একটা উত্তর খুঁজেই পাগল হয়ে যাই— এই মৃত্যুর জন্য কে দায়ী?
আমার সেই রাতের একটুখানি তেঁতুল খাওয়ার শখ... নাকি সেই ৪০০ বছরের পুরোনো, অভিশপ্ত তেঁতুল গাছটা?
ঘটনা টা একদম সত্যি ।
পাঠক, আপনাদের কী মনে হয়? এই রহস্যময় মৃত্যুর পেছনে আসল কারণ কী? অবশ্যই কমেন্ট করে জানান!
আর হ্যাঁ, website থেকে গল্প পড়লে অবশ্যই সবক্রাইব করবেন। পেজ থেকে পড়লে ফলো করবেন 🥰
