পর্ব ১( সত্য এই ঘটনা পাঠিয়েছেন, সাইফুল ইসলাম।)
এ টা যখনকার ঘটনা, তখন ছোট এক জেলা শহরে থাকি। সবেমাত্র এস.এস.সি পরীক্ষা শেষ হয়েছে।
হাতে অফুরন্ত সময়। স্রেফ সহপাঠী বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে দিয়ে অলস সময় কাটাচ্ছি। একদিন বন্ধুদের আড্ডায় কথা হচ্ছিল, খুব ভোরে উঠে সবাই মিলে জগিং, ব্যায়াম, রিং ঝোলা ইত্যাদি প্রাকটিস করলে কেমন হয়?
তাতে শরীরও ভাল থাকবে আবার সময়ও কাটবে। ব্যায়ামের কথা উঠতেই আমি অতি উৎসাহী হয়ে উঠলাম।
কেননা আড্ডায় ফুটবল দল গঠন, ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনসহ যেসব অ্যাসাইনমেন্ট নেয়া হত, তাতে আমিই আগাম উৎসাহ দেখাতাম।
ফল হলো বিপরীত। বন্ধুরা আমাকেই গুরু দায়িত্ব দিল। আমার কাজ হলো খুব ভোরে নিজে আগে ঘম থেকে উঠব,
তারপর অন্যান্য বন্ধুদের বাসার কাছে গিয়ে তারা যে রূমে ঘুমায় সেই রূমের জানালায় ঢিল ছুঁড়ব। তাতে তারা বুঝে নেবে ব্যায়াম করার সময় হয়েছে। এবং তারা তারি ব্যায়ামের পোশাক পরে বড় রাস্তায় এসে হাজির হবে।
নিজে খুব ভীতু থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব নিলাম শুধু ব্যায়াম করা যাবে বলে। এভাবে সবাইকে ডাকার পর এক জায়গায় জড়ো হতাম। তারপর আমরা জগিং করে মাইলের পর মাইল চলে যেতাম। একেবারে 'শহরের শেষ প্রান্তে। আবার ফিরে আসতাম।
তো এভাবে চলছিল আমাদের ব্যায়াম করা, জগিং করা মানে দৌড়ানো। একদিন রাতে হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেল। দেখি আকাশ একেবারে সাদা। ফর্সা।
চারদিক আলোকিত। মনে হলো ভোর হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি উঠে, ব্যায়ামের পোশাক পরে বড় রাস্তায় এলাম। ভাবলাম অন্য বন্ধুদের ঘুম থেকে ডেকে তোলার আগে নিজেই মাইল খানেক দৌড়ে আসি। অন্যান্য দিনের মতই শুরু করলাম দৌড়।
দৌড়াতে দৌড়াতে শহরের একেবারে শেষ সীমানা ছাড়িয়ে গেলাম। অনেক দূরে আম বাগান, ইট ভাটা, ডেইরি ফার্ম, তাও ছাড়িয়ে গেলাম উৎসাহ নিয়ে। অবশেষে ক্ষান্ত দিলাম। ফিরে আসতে লাগলাম শহরের দিকে।
বাসার কাছাকাছি যখন এসে পড়েছি তখন দেখলাম বিপরীত দিক থেকে ছোট একটা লাঠি হাতে নিয়ে খাকি রংয়ের পোশাক পরা এক লোক হেঁটে আসছেন। তাঁর সামনে এসে পড়তেই তিনি আমাকে থামালেন।
প্রায় ধমকের সুরে বললেন, 'এই ছেলে, ছেলে, এত রাতে দৌড়াচ্ছ কেন? বাসায় যাও।' আমি তো অবাক। এখন রাত হয় কিভাবে? মুহূর্তে আমার হাতের রোম খাড়া হয়ে উঠল।
তাড়াতাড়ি বাসায় গিয়ে ঘড়িতে দেখি তখন রাত ২টা বেজে ১১ মিনিট।' তাহলে আকাশ এত আলোকিত, সাদা, ফর্সা কেন? তখন বুঝলাম আজ পূর্ণিমা রাত। কি সাংঘাতিক!
পূর্ণিমায় আলোকিত আকাশ দেখে আমি ভেবেছি-ভোর হয়ে গেছে। আর কিনা মাইলের পর মাইল একেবারে শহরের সীমানা ছাড়িয়ে কোথায় চলে গেছি জগিং করার নামে। সেটা ভাবতেই আমার ভয় ধরে আসে। সে রাতে ফের ঘুমানোর পর রীতিমত সকাল না হওয়া পর্যন্ত আর উঠিইনি।
একদম সত্য ঘটনা।
