গল্পের নাম: মহিম ভাই
পাঠিয়েছেন: মো. মেহেদী হাসান
পর্ব ১
আজ থেকে প্রায় কয়েক বছর আগের কথা। তখন আমি সপ্তম শ্রেণীতে পড়ি। হেসে খেলে দিনগুলো বেশ ভালই কাটছিল। হঠাৎ এরই ফাঁকে এসে গেল গ্রীষ্মকাল।
বোধহয় এই কারণেই প্রত্যেকদিন সন্ধ্যা ও রাতে বিদ্যুৎ চলে যেত। ফলে তখন যেন আমরা ঈদের চাঁদ হাতে পেতাম। কারণ বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে আমরা পড়তাম না এবং প্রচণ্ড গরমের কারণে সবাই বাইরে বেরিয়ে আসতাম।
এরই ফাঁকে আমি কয়েকজন বন্ধু খুঁজে নেই। ফলে আমরা তখন রাত আসার জন্যে অপেক্ষা করতাম।
পর্ব ২
আমাদের পাড়ার পরেই পূর্ব পাড়া। সেখানে মহিম নামে আঠারো বছরের এক যুবক থাকত। সে যেমন লম্বা ছিল তেমনি মোটা ছিল।
তার সঙ্গে যদি কখনও রাস্তায় দেখা হত, সে আমাদেরকে ধমকের সুরে বলত, ‘কিরে, তোরা এখানে কেন? যা এখান থেকে, খবরদার আর যেন এখানে না দেখি।’ ফলে আমরা ভয় পেতাম এবং তাকে যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতাম।
পর্ব ৩
তো যাই হোক, এমনি এক গরমের সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ চলে গেল। ফলে আমরা সবাই রোজকার মত বাইরে ঘুরতে বের হলাম। চাঁদ তখন পুরোপুরি না উঠলেও আবছামত দেখা যাচ্ছিল।
আমরা তখন অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম এবং যে যার মত গুনগুন করে গান গাইছিলাম। হঠাৎ আমাদের পাশ দিয়ে একটি লোক চলে গেল। হালকা অন্ধকার হলেও আমরা সবাই ব্যাপারটি বুঝতে পারলাম।
যে লোকটি যাচ্ছিল, সে তার লুঙ্গি মাথায় নিয়ে দিব্যি দিগম্বর হয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। বোধহয় এর কারণে আরামও বোধ করছিল।
হঠাৎ এইসময় বিদ্যুৎ চলে এল। সঙ্গে সঙ্গে আমরা লোকটিকে চিনতে পারলাম। বলে উঠলাম, ‘আরে, এ যে আমাদের মহিম ভাই!’ আমরা তাকে দেখে ভয় পাওয়ার বদলে হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়লাম।
সে-ও আমাদেরকে দেখে সেই যে লজ্জায় দৌড় দিল, তার পরের দুইদিন তার সাথে আর দেখা হয়নি। বিদ্যুৎ চলে আসার কারণে আমরা সবাই যে যার বাড়িতে চলে গেলাম। কিন্তু পড়ার সময় শুধু সেই দৃশ্য মনে হচ্ছিল এবং হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যাচ্ছিল।
আমার এই হাসি দেখে সবাই বলল, ‘কিরে, মেহেদী, এত হাসি কিসের?’ আমি কোনভাবে হাসি চেপে বললাম, ‘কই না তো, এমনি হাসছি।’
পর্ব ৫
তার দুইদিন পরে যখন স্কুলে যাচ্ছিলাম, পথে হঠাৎ মহিম ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলো। আমি তাকে দেখে ভয় পাওয়ার বদলে শুধু হাসতে লাগলাম। বললাম, ‘কি, মহিম ভাই, কেমন আছেন?’ সে শুধু উত্তরে বলল, ‘ভাল আছি। আজ আর সময় নেই, কাল দেখা হবে।’
বলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, সেই স্থান ত্যাগ করল। তারপর থেকে তার সঙ্গে দেখা হলে আমরা এড়িয়ে চলার বদলে, সে-ই আমাদের এড়িয়ে চলত।
পর্ব ৬
কিন্তু সেই এড়িয়ে চলাই তার কাল হয়ে দাঁড়াল। একদিন পথ চলার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় সে গুরুতর আহত হয় ও পরে মারা যায়।
এতদিন ওই ঘটনা আমার মনে থাকবে, ততদিন মহিম ভাইও আমার হৃদয়ে স্মৃতি হয়ে থাকবে। আমি তার আত্মার মঙ্গল কামনা করি। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।
সমাপ্ত
